লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প 2026 (Laxmi Bhandar Prakalpa 2026)

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Last updated on February 10th, 2026 at 07:49 am

পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য অনেক প্রকল্প চালু হয়েছে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্রকল্প হলো “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প”। এই প্রকল্প মহিলাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করে। 2026 সালে এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কারণ এটি এখনও রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার জীবনে বড় ভূমিকা রাখছে। আজ আমরা এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত জানব। সবকিছু সহজ ভাষায় বলব, যাতে আপনারা সবাই বুঝতে পারেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প কী?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প। এটি 2021 সালে শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটি চালু করেন। এর মূল লক্ষ্য হলো মহিলাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া। যারা গরিব বা আর্থিকভাবে দুর্বল, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ। এই প্রকল্পে মহিলারা প্রতি মাসে টাকা পান। সাধারণ মহিলারা 1000 টাকা পান। আর তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলারা পান1200 টাকা। তবে 2026 সালের বাজেট অধিবেশনে সরকার এই প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে সাধারণ মহিলারা 1500, টাকা আর তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলারা 1700 টাকা করে পাবেন। করা হয়।এই টাকা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায়। 2025 সালেও এই প্রকল্প চলছে। এটি এখন প্রায় ২ কোটি মহিলার জীবনে সাহায্য করছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উদ্দেশ্য

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য খুব সহজ। মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করা। অনেক পরিবারে মহিলারা রোজগার করেন না। তাদের কোনো নিজস্ব আয় নেই। ফলে তারা অন্যের ওপর নির্ভর করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এই সমস্যা দূর করতে চায়। এটি মহিলাদের একটু হলেও স্বনির্ভর করে। তারা এই টাকা দিয়ে নিজের ছোটখাটো খরচ চালাতে পারেন। বাড়ির জন্য কিছু কিনতে পারেন। এমনকি ছোট ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। এতে পরিবারের অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়। আর গ্রাম ও শহরের অর্থনীতিতেও ভালো প্রভাব পড়ে। সরকার চায় মহিলারা সমাজে সমানভাবে এগিয়ে আসুক। এটাই এই প্রকল্পের বড় উদ্দেশ্য।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে কারা পাবে?

সবাই এই প্রকল্পের টাকা পান না। এর জন্য কিছু শর্ত আছে।

  • প্রথমত, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বয়স হতে হবে 25 থেকে 60 বছরের মধ্যে।
  • শুধু মহিলারাই আবেদন করতে পারবেন। পুরুষদের জন্য এটি নয়।
  • তফশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা 1700 টাকা পান। আর সাধারণ শ্রেণির মহিলারা 1500 টাকা পান।
  • যারা গরিব বা আর্থিকভাবে দুর্বল, তারাই এটির জন্য যোগ্য।
  • এছাড়া পরিবারে যতজন মহিলা থাকুন, সবাই আবেদন করতে পারেন। তবে শর্ত পূরণ করতে হবে।
  • 60 বছর পার হলে তারা বার্ধক্য ভাতা পাবেন। তখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যায়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে কারা পাবে না?

কিছু মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পান না।

  • যেমন, যারা সরকারি চাকরি করেন, তারা পাবেন না।
  • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরাও অযোগ্য।
  • যদি পরিবারে কেউ আয়কর দেন, তাহলে সেই পরিবারের মহিলারা আবেদন করতে পারবেন না।
  • সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের 2 হেক্টরের বেশি জমি থাকলে তারা পাবেন না।
  • যারা অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তারাও এর জন্য যোগ্য নন।
  • এছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক না থাকলেও সমস্যা হতে পারে।
  • সরকার এই শর্তগুলো দিয়েছে। যাতে শুধু প্রকৃত গরিবরাই সুবিধা পায়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে কী কী ডকুমেন্টস লাগবে?

এই প্রকল্পে আবেদন করতে কিছু কাগজপত্র লাগে। প্রথমে আধার কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে। এটি পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। তারপর স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের ফটোকপি লাগবে। এটি না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে চলে। তবে থাকলে ভালো। ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতার ফটোকপি জমা দিতে হবে। এতে অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC কোড থাকতে হবে। কারণ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে যায়। একটি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিও লাগবে। তফশিলি জাতি বা উপজাতির মহিলাদের কাস্ট সার্টিফিকেট দিতে হবে। সব কাগজে নিজের সই করে দিতে হবে। এটাকে সেলফ অ্যাটেস্টেড বলে। এগুলো ছাড়া আবেদন গ্রহণ হবে না।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনলাইন আবেদন

আগে শুধু দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করা যেত। এখন সারা বছর আবেদন করা যায়। তবে অনলাইনে সরাসরি আবেদনের সুবিধা নেই। ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হয়। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম পাওয়া যায়। এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ফর্ম নিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। তারপর কাগজপত্র সঙ্গে জমা দিতে হবে। ক্যাম্প না থাকলে বিডিও অফিসে জমা দেওয়া যায়। অনলাইনে শুধু স্ট্যাটাস চেক করা যায়। আবেদনের জন্য সরাসরি যেতে হবে। এটি একটু ঝামেলার। তবে সরকার এভাবেই ব্যবস্থা করেছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ফর্ম ফিলাপ 2026

ফর্ম পূরণ করা খুব সহজ।

  • প্রথমে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে ফর্ম নিন।
  • ফর্মে নাম, ঠিকানা লিখতে হবে। আধার নম্বর দিতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত লাগবে। মোবাইল নম্বর লিখতে হবে। তফশিলি হলে সেটি উল্লেখ করতে হবে।
  • একটি ছবি লাগাতে হবে। সব তথ্য ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তারপর কাগজপত্র সঙ্গে দিন। ফর্মে সই করতে ভুলবেন না।
  • জমা দেওয়ার পর একটি রিসিপ্ট পাবেন। এটি রেখে দিন। পরে স্ট্যাটাস চেক করতে কাজে লাগবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ফর্ম PDF ডাউনলোড

ফর্ম অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়। সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। https://socialsecurity.wb.gov.in এই সাইটে দেখতে পারেন। তবে সব সময় ফর্ম পাওয়া যায় না। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে নেওয়াই ভালো। ফর্ম বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ডাউনলোড করলে প্রিন্ট করে পূরণ করতে হবে। তারপর কাগজপত্র সঙ্গে জমা দিতে হবে। অনেকে অনলাইনে ফর্ম খুঁজে সময় নষ্ট করেন। কিন্তু ক্যাম্পে গেলে সহজে পাওয়া যায়। তাই সেটাই ভালো উপায়।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প স্ট্যাটাস চেক

আবেদন করার পর স্ট্যাটাস চেক করা যায়। এটি অনলাইনে করতে হবে।

  • প্রথমে https://socialsecurity.wb.gov.in সাইটে যান।
  • তারপর “Track Application Status” অপশনে ক্লিক করুন।
  • চারটি বিকল্প আসবে। অ্যাপ্লিকেশন আইডি, মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর, বা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নম্বর। যেকোনো একটি দিন।
  • তারপর ক্যাপচা কোড লিখুন। “Search” এ ক্লিক করলেই স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
  • এটি Approved, Pending, বা Rejected হতে পারে। Approved হলে টাকা শিগগিরই আসবে।

Laxmi Bhandar Payment Status Check

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মোবাইল নাম্বার দিয়ে চেক

মোবাইল নম্বর দিয়েও স্ট্যাটাস চেক করা যায়। একই ওয়েবসাইটে যান। “Track Application Status” এ ক্লিক করুন। মোবাইল নম্বর অপশন বেছে নিন। আবেদনে দেওয়া নম্বরটি লিখুন। ক্যাপচা কোড পূরণ করুন। তারপর “Search” করুন। স্ট্যাটাস স্ক্রিনে চলে আসবে। এটি খুব সহজ পদ্ধতি। বাড়িতে বসেই করা যায়। তবে নম্বর সঠিক হতে হবে। ভুল হলে স্ট্যাটাস দেখা যাবে না।

2026 সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নতুন কী?

2026 সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন বেশ তুঙ্গে। 2021 সালেও এই প্রকল্পটি চালু রয়েছে, তবে নতুন করে টাকা বাড়ানোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। এর আগে 2024 সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মহিলাদের মাসিক সাহায্য 500 টাকা থেকে বাড়িয়ে 1000 টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলাদের জন্য 1000 টাকা থেকে 1200 টাকা করা হয়, যা এপ্রিল 2024 থেকে কার্যকর হয়েছে। 2025 সালে এই অঙ্ক আর বাড়ানো হয়নি। তবে 2026 সালের বিধানসভা ভোটের আগে সরকার বাজেট অধিবেশনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে সাধারণ মহিলাদের 1500 টাকা এবং SC/ST মহিলাদের 1700 টাকা করা করেছে।

কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অনেক মহিলার জীবন বদলে দিয়েছে। যাদের কোনো আয় নেই, তারা এই টাকায় ভরসা করেন। ছোটখাটো খরচ চলে। অনেকে সঞ্চয়ও করেন। এতে পরিবারের অবস্থা ভালো হয়। সমাজে মহিলাদের মর্যাদা বাড়ে। সরকারের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। 2026 সালে এটি আরও বড় হতে পারে। যদি আরও মহিলা যুক্ত হন, তবে প্রভাব আরও বাড়বে।

শেষ কথা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য একটি আশীর্বাদ। এটি তাদের জীবনে স্বাধীনতা এনেছে। 2026 সালে এটি নিয়ে আরও জানতে হলে সরকারি খবরের দিকে নজর রাখুন। আবেদন করতে চাইলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যান। সঠিক কাগজপত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। স্ট্যাটাস চেক করতে মোবাইল বা অনলাইন ব্যবহার করুন। এই প্রকল্পে যোগ দিয়ে নিজের জীবন বদলান। সরকারের এই উদ্যোগ আপনার জন্যই।

Babusona Mondal

Babusona Mondal

I am Babusona Mondal, a government schemes content writer with 4+ years of experience on platforms like mywestbengal.com. I also have 7+ years of practical experience with CSC e-Gov, CSP, and the West Bengal Labor Department.

Leave a comment