SIR Documents List West Bengal 2026: কোন কোন নথি লাগবে, কারা দেবেন, সম্পূর্ণ সহজ গাইড

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

SIR Documents List West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে এখন SIR বা Special Intensive Revision নিয়ে চারদিকে অনেক আলোচনা চলছে। অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন ঘুরছে – কী কী কাগজ লাগবে? কারা জমা দেবে? আর কারা ছাড় পাবে? সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে “West Bengal SIR Documents List” অনুসারে মাত্র ১৩টা নির্দিষ্ট নথির মধ্যে যেকোনো একটা জমা দিলেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এতে করে সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই বিষয়টাকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব, যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন। আমরা ধাপে ধাপে সবকিছু জানাব, উদাহরণ সহ, যাতে আপনার মনে আর কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

SIR কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

প্রথমে বুঝে নেওয়া যাক SIR মানে কী। SIR হলো State Identification Register, যা রাজ্য স্তরে নাগরিকদের পরিচয় যাচাই করার একটা প্রক্রিয়া। এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে চালু হয়েছে, যাতে নাগরিকদের অধিকার এবং সুবিধা সঠিকভাবে বিতরণ করা যায়। কিন্তু শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন যে এটা NRC বা CAA-এর মতো কিছু, যা নিয়ে অনেক ভয় এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। আসলে এটা তা নয়। এটা শুধুমাত্র রাজ্যের নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য, যাতে ভোটার লিস্ট, রেশন কার্ড, বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা সঠিক লোকের কাছে পৌঁছায়।

সম্প্রতি কমিশনারের দফতর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে যেকোনো নাগরিককে মাত্র একটা নথি দেখাতে হবে। এতে করে প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আগে লোকেরা ভাবতেন যে অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হবে, কিন্তু এখন না। যদি আপনার কাছে এই ১৩টা নথির মধ্যে যেকোনো একটা থাকে, তাহলে আপনি সহজেই যাচাই সম্পূর্ণ করতে পারবেন। এখন চলুন বিস্তারিতভাবে এই লিস্টটা দেখি। আমরা প্রত্যেকটা নথি নিয়ে সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করব, যাতে আপনি বুঝতে পারেন কোনটা আপনার জন্য উপযোগী।

খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা
এটি কোনোভাবেই নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নয়। এটি শুধু যাচাই (Verification), শাস্তি বা বাতিল করার ব্যবস্থা নয়।

SIR Documents List West Bengal

আপনার বাড়িতে নোটিশ/ চিঠি আসলে SIR Documents List West Bengal অনুযায়ী আপনি যে সমস্ত নথি গুলি জমা করতে পারবেন সেগুলি হল।

Sl. NoDocument NameIssuing Authority / Important Notes
1Identity Card / Pension Payment Order (PPO)Central Govt / State Govt / PSU-এর নিয়মিত কর্মচারী বা পেনশনভোগীদের জন্য
2Identity Card / Certificate / Document (Issued before 01.07.1987)Government / Local Authority / Bank / Post Office / LIC / PSU দ্বারা ইস্যু হতে হবে
3Birth CertificateCompetent Authority দ্বারা ইস্যু করা
4Passportভারত সরকারের ইস্যু করা বৈধ পাসপোর্ট
5Matriculation / Educational CertificateRecognised Board বা University দ্বারা ইস্যু করা
6Permanent Residence Certificateউপযুক্ত State Authority দ্বারা ইস্যু করা
7Forest Right CertificateForest Rights Act অনুযায়ী ইস্যু করা
8OBC / SC / ST / Any Caste CertificateCompetent Authority দ্বারা ইস্যু করা
9National Register of Citizens (NRC)যেখানে NRC বিদ্যমান, সেখানে প্রযোজ্য
10Family RegisterState বা Local Authority (Panchayat / Municipality) দ্বারা প্রস্তুত
11Land / House Allotment CertificateGovernment দ্বারা জমি বা বাড়ি বরাদ্দের সার্টিফিকেট
12Aadhaar CardCommission letter No. 23/2025-ERS/Vol.II (09.09.2025) অনুযায়ী প্রযোজ্য
13Extract of Electoral Roll of Bihar SIR01.07.2025 তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য

West Bengal SIR Documents List: ১৩টা নথির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, নিচের ১৩টা নথির মধ্যে যেকোনো একটা জমা দিলেই চলবে। এগুলো সবাইকে সহজে পাওয়া যায় এমন নথি। চলুন এক এক করে দেখি:

১. কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকার বা PSU-এর নিয়মিত কর্মী/পেনশনারদের আইডেন্টিটি কার্ড বা পেনশন পেমেন্ট অর্ডার: যদি আপনি কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, বা কোনো পাবলিক সেক্টর ইউনিটে (যেমন রেলওয়ে, SBI, বা WBSEDCL) চাকরি করেন বা পেনশন পান, তাহলে আপনার অফিসের আইডেন্টিটি কার্ড বা পেনশনের অর্ডার দেখাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি রেলওয়ের কর্মী হন, তাহলে আপনার ID কার্ডই যথেষ্ট। এটা খুব সাধারণ নথি, অনেকের কাছে থাকে।

২. ১৯৮৭-এর ১ জুলাইয়ের আগে সরকার/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ/ব্যাঙ্ক/পোস্ট অফিস/LIC/PSU-এর দ্বারা জারি করা যেকোনো আইডেন্টিটি কার্ড/সার্টিফিকেট/নথি: এটা একটা পুরনো নথির ক্যাটাগরি। যদি আপনার কাছে ১৯৮৭-এর আগে জারি করা কোনো সরকারি কাগজ থাকে, যেমন ব্যাঙ্কের পাসবুক, পোস্ট অফিসের সার্টিফিকেট, বা LIC-এর পলিসি, তাহলে সেটা চলবে। উদাহরণ: আপনার বাবার কাছে যদি ১৯৮০-এর একটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাগজ থাকে, সেটাই যথেষ্ট। এটা তাদের জন্য উপযোগী যারা পুরনো নাগরিক।

৩. জন্ম সার্টিফিকেট: এটা সবচেয়ে সহজ নথিগুলোর একটা। যদি আপনার জন্ম সার্টিফিকেট থাকে, যা হাসপাতাল বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জারি করা, তাহলে সেটা দেখান। উদাহরণ: যদি আপনি ১৯৯০-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং আপনার কাছে মিউনিসিপ্যালিটির জন্ম সার্টিফিকেট থাকে, তাহলে আর কিছু লাগবে না। এটা শিশু থেকে বয়স্ক সবার জন্য প্রযোজ্য।

৪. পাসপোর্ট: যদি আপনার ভারতীয় পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেটাই সবচেয়ে শক্তিশালী নথি। উদাহরণ: যদি আপনি বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট বানিয়েছেন, সেটা দেখিয়ে SIR যাচাই করুন। এটা খুবই নির্ভরযোগ্য।

৫. ম্যাট্রিকুলেশন বা শিক্ষাগত সার্টিফিকেট: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জারি করা ম্যাট্রিক, হায়ার সেকেন্ডারি, বা ডিগ্রি সার্টিফিকেট। উদাহরণ: আপনার ১০ম শ্রেণির মার্কশিট যদি WB Board-এর থেকে হয়, সেটা চলবে। এটা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আদর্শ।

৬. স্থায়ী বাসস্থানের সার্টিফিকেট: রাজ্য কর্তৃপক্ষ থেকে জারি করা PR সার্টিফিকেট। উদাহরণ: যদি আপনি কলকাতায় থাকেন এবং DM অফিস থেকে PR সার্টিফিকেট নিয়েছেন, সেটা দেখান। এটা তাদের জন্য যারা স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণ করতে চান।

৭. ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট: এটা আদিবাসী বা বনাঞ্চলের লোকদের জন্য। যদি আপনার ফরেস্ট রাইট আছে, সেটা জমা দিন। উদাহরণ: সুন্দরবনের বাসিন্দাদের জন্য এটা খুব উপযোগী।

৮. OBC/SC/ST বা অন্যান্য জাতি সার্টিফিকেট: যেকোনো কাস্ট সার্টিফিকেট যা কর্তৃপক্ষ থেকে জারি। উদাহরণ: যদি আপনি SC ক্যাটাগরির হন এবং আপনার কাস্ট সার্টিফিকেট থাকে, সেটাই যথেষ্ট। এটা সংরক্ষিত শ্রেণির লোকদের সাহায্য করে।

৯. ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (যেখানে উপলব্ধ): যদি আপনার NRC-এর এন্ট্রি থাকে, সেটা দেখান। উদাহরণ: অসমের মতো জায়গায় যদি NRC হয়, সেটা প্রযোজ্য। পশ্চিমবঙ্গে এটা কম দেখা যায়।

১০. পারিবারিক রেজিস্টার: রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে তৈরি ফ্যামিলি রেজিস্টার। উদাহরণ: গ্রাম পঞ্চায়েতের ফ্যামিলি রেজিস্টার যদি থাকে, সেটা চলবে। এটা পরিবারভিত্তিক প্রমাণের জন্য।

১১. সরকারি জমি/বাড়ি বরাদ্দের সার্টিফিকেট: যদি সরকার থেকে জমি বা বাড়ি বরাদ্দ পেয়েছেন, সেই কাগজ। উদাহরণ: ল্যান্ড রিফর্মের অধীনে জমি পেলে সেই সার্টিফিকেট।

১২. আধার কার্ড: এখানে বিশেষ নির্দেশ আছে। কমিশনের ২৩/২০২৫-ERS/Vol.II dated ০৯.০৯.২০২৫ অনুসারে আধার প্রযোজ্য। উদাহরণ: যদি আপনার আধার থাকে এবং সেটা সঠিকভাবে যাচাই হয়েছে, তাহলে চলবে।

১৩. বিহার SIR-এর E.Roll এক্সট্র্যাক্ট w.r.t ০১.০৭.২০২৫: এটা বিহার থেকে আসা লোকদের জন্য। যদি আপনার বিহারের SIR-এ এন্ট্রি থাকে, সেটা দেখান।

এই লিস্টটা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে সরকার চেয়েছে সবাইকে সহজ সুযোগ দেওয়া। যদি আপনার কাছে এগুলোর মধ্যে কোনো একটা না থাকে, তাহলে চিন্তা করবেন না – স্থানীয় অফিসে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।

কারা ডকুমেন্ট জমা দেবেন?

পশ্চিমবঙ্গে SIR ২০২৬-এর অধীনে (যা ভোটার লিস্টের বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া) নিজে থেকে কোথাও গিয়ে ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার দরকার নেই। এটা বাধ্যতামূলক নয় যে সবাইকে কাগজপত্র দেখাতে হবে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট লাগতে পারে।

আপনাকে ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে যদি—

  • সরকারিভাবে নোটিশ আসে: আপনার বাড়িতে বা ঠিকানায় Booth Level Officer (BLO) বা Electoral Registration Officer (ERO) থেকে একটা নোটিশ/চিঠি আসে। এতে বলা হবে যে আপনার নাম ভোটার লিস্টে “unmatched” বা পুরনো SIR রোল (২০০২-২০০৪ এর) এর সাথে মিলছে না। তখন শুধুমাত্র সেই নোটিশের উত্তরে ডকুমেন্ট দেখাতে হবে। উদাহরণ: যদি আপনি ফর্মে পুরনো ভোটার লিস্টের তথ্য না দিতে পারেন বা নাম না মিলে যায়, তাহলে ERO থেকে নোটিশ আসবে (ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই হিয়ারিং চলে)।
  • যাচাইয়ের জন্য বলা হয়: যদি আপনার নাম Draft Roll-এ থাকে কিন্তু পুরনো লিঙ্ক না পাওয়া যায়, বা কোনো অভিযোগ/ক্লেইম-অবজেকশনের সময় যাচাই দরকার হয়। এছাড়া নতুন ভোটার আবেদন করলে (Form 6 দিয়ে) কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই লাগতে পারে।

❌ কখনোই নিজে নিজে ডকুমেন্ট জমা দিতে যাবেন না:

  • BLO-কে enumeration ফর্মের সময় ডকুমেন্ট দিতে হয় না।
  • নিজে থেকে অফিসে গিয়ে কাগজ জমা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
  • শুধুমাত্র নোটিশ পেলে বা শুনানির সময় (hearing) ডকুমেন্ট দেখাতে হয়।

কেন এমন নিয়ম?

Election Commission of India (ECI) চায় যে ভোটার লিস্টে শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিক থাকুক। তাই পুরনো SIR রোল (২০০২-এর) এর সাথে লিঙ্ক করে যাচাই করা হচ্ছে। যাদের নাম বা পরিবারের নাম সেই পুরনো লিস্টে মিলে যায়, তাদের কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না। যাদের মিলছে না, শুধু তাদেরকেই নোটিশ পাঠানো হয় এবং তখন ১৩টা নথির (যেমন জন্ম সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, আধার ইত্যাদি) মধ্যে যেকোনো একটা দেখালেই চলে।

কী করবেন এখন?

  1. আপনার নাম Draft Electoral Roll-এ চেক করুন (ceowestbengal.nic.in বা voters.eci.gov.in-এ)।
  2. যদি নাম থাকে এবং পুরনো লিঙ্ক মিলে যায় → চিন্তা নেই, কিছু করতে হবে না।
  3. যদি নাম না থাকে বা নোটিশ আসে → তখন শান্তভাবে ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন এবং hearing-এ দেখান।
  4. অনলাইনে ফর্ম চেক/ক্লেইম করতে পারেন voters.eci.gov.in বা ECINET অ্যাপে।
  5. কোনো সন্দেহ হলে হেল্পলাইন ১৯৫০ কল করুন বা স্থানীয় BLO-কে জিজ্ঞাসা করুন।
Babusona Mondal

Babusona Mondal

I am Babusona Mondal, a government schemes content writer with 4+ years of experience on platforms like mywestbengal.com. I also have 7+ years of practical experience with CSC e-Gov, CSP, and the West Bengal Labor Department.

Leave a comment